দরবার শরীফে যুবক খুনের ঘটনায় হুকুমদাতা পীরের গ্রেফতার দাবি

 দরবার শরীফে যুবক খুনের ঘটনায় হুকুমদাতা পীরের গ্রেফতার দাবি
Read Time:3 Minute, 53 Second

কথিত পীর তাছেরকে প্রধান আসামী করে গ্রেফতারের দাবি নিহতের পরিবারের

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবার শরীফে রাশেদ (২৮) নামে এক যুবক খুন হওয়ার ঘটনায় দরবার শরীফের কথিত পীর তাছের ফকিরকে হুকুমদাতা হিসেবে অভিযোগ করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতারের দাবি করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে নিহত রাশেদের বাবা হত্যা মামলার বাদী আব্দুর রাজ্জাক সহ এলাকাবাসী এ দাবি করেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কল্যানপুর দরবার শরীফের পীর তাছের ফকিরের নির্দেশে তার ছেলে রাশেদকে গাছে ঝুলিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অথচ যার নির্দেশে আমার ছেলেকে খুন করা হলো সেই পীরকে ১০ নং আসামী করেছে পুলিশ। দরবার শরীফের পীর তাছের ফকিরকে হুকুমদাতা প্রধান আসামী করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, এক বছর আগে আমার ছেলে রাশেদকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে ছিলাম। সেখান থেকে দরবার শরীফের লোকজন ফোন করে ছেলেকে ফেরত এনে এভাবে খুন করে আমার বুক খালি করলো। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই। এ পীরের দরবারে এসে আরও অনেক যুবকরা বিপথগামী হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন নিহতের বাবা। গত রোববার দুপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার কল্যানপুরে পীর তাছের ফকিরের দরবার শরীফের ভেতরে যুবক রাশেদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত যুবক দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের হরিনগাছী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও মামলার আসামী কল্যানপুর দরবার শরীফের পীর তাছের ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে কল্যালপুর দরবার শরীফের কথিত পীর তাছের ফকির সহ ১০জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫-২০জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। দৌলতপুর থানা পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত মামলার এজাহার নামীয় ৬জন আসামীকে গ্রেফতার করলেও মামলার অন্যতম হুকুমদাতা ১০নং আসামী পীর তাছের ফকিরকে গ্রেফতার করা হয়নি। গ্রেফতার হয়নি মামলার এজাহার নামীয় অপর আসামী মাহবুব খান সোবহানী সালাম সহ অপর ৪জন। দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, কল্যানপুর দরবার শরীফে খুনের ঘটনায় অধিকতর জিঞ্জাসাবাদ ও তথ্য উদঘাটের জন্য জেলহাজতে প্রেরিত আসামীদের রিমান্ডে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হত্যার সাথে জড়িত যারা গ্রেফতার হয়নি তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন