আফগানিস্তানে যৌথ সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে চীন ও রাশিয়া! ১০ হাজার সেনার মহড়া চলছে

 আফগানিস্তানে যৌথ সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে চীন ও রাশিয়া! ১০ হাজার সেনার মহড়া চলছে

আফগানিস্তানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া নিয়ে অভিন্ন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে চীন এবং রাশিয়া মধ্যে। মধ্য এশিয়ায় এ দুটি দেশকে অর্থনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু তাদের দ্বোরগোড়ায় তালেবান গোষ্ঠীর পায়ের শব্দ।  এ অবস্থায় তারা ক্রমশ কাছাকাছি চলে আসছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো একেবারে বিদায় নেয়ার পথে। তাদের পরে এখন এখানে যৌথভাবে অভিযান চালাতে পারে তালেবান। এ জন্য জোটও গঠন করতে পারে। এরই মধ্যে উভয় দেশের ১০ হাজার সেনা মহড়া চালাচ্ছে। অনলাইন নিক্কি এশিয়া’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

কেউ কেউ বলছেন, মধ্য এশিয়ায় নিরাপত্তার যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে এ দুটি দেশ যৌথভাবে সামরিক হস্তক্ষেপ চালাতে পারে। অন্যরা বলছেন, এমন অংশীদারিত্ব দ্রুততার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় রূপ নেবে। উভয় দেশের কমপক্ষে ১০ হাজার সেনা এখন চীনের নিঙসিয়া হুই স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে অবস্থান করছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও সাজোয়া যান। সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে এরই মধ্যে তারা মহড়া শুরু করেছে। নিজেরা শত্রু নিশানাকে টার্গেট করে হাজার হাজার সমরাস্ত্রের গোলা নিক্ষেপের মহড়া বা রিহার্সেল করছে। পাঠানো হচ্ছে যৌথ বোমা হামলা মিশনে যুদ্ধবিমান। শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানে স্থলপথে চালানো হচ্ছে হামলার মহড়া।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই মহড়া নিয়ে একটি বিবৃতি দেয়া হয়েছে। এতে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংকল্প এবং সক্ষমতার মহড়া চলছে বলে বলা হয়েছে। তারা যৌথভাবে ওই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য এই মহড়া চালাচ্ছে। এখানে উল্লেখ করার বিষয় হলো, চীন এবং রাশিয়া এই মহড়া এমন এক সময়ে চালাচ্ছে, যখন তালেবানরা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে তাদের আক্রমণ তীব্র করেছে। তারা কমপক্ষে ৯টি প্রাদেশিক রাজধানী দখল করেছে। মে মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে তালেবানরা একের পর এক ভূখণ্ড তাদের দখলে নিচ্ছে।

Situs Slot Sering JP

Situs Judi Slot Online Terbaik Dan Terpercaya No 1

Situs Judi Slot Online Gampang Menang

Slot Online Gampang Menang

কোনো কেনো হিসাবে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ৪০০ জেলার অর্ধেকেরও বেশি এখন নিয়ন্ত্রণ করে তালেবান। দু’তিন মাস আগে তাদের দখলে যে পরিমাণ জায়গা ছিল, এই সংখ্যা তার দ্বিগুনের বেশি।
এ অবস্থায় বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, আফগানিস্তানের এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে মধ্য এশিয়ার অন্য দেশগুলোতে। এ সপ্তাহে আরো উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করা গেছে। তা হলো, তাজিকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তান। বুধবার রাশিয়ার মিডিয়া বলেছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু বলেছেন, মধ্য এশিয়ার এই দুটি দেশের সীমান্তগুলোর দখল বুধবার নিজেরা নিয়ে নিয়েছে তালেবানরা।

মধ্য এশিয়ায় চীন এবং রাশিয়া- উভয়েরই উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক স্বার্থ আছে। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়ন বাণিজ্যিক ব্লকের জন্য রাশিয়া এরই মধ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোকে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করছে। অন্যদিকে এ অঞ্চলে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অংশ হিসেবে অবকাঠামো খাতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে। এই দুটি দেশই এই অঞ্চলে তার প্রভাব বিস্তার করতে চায়। ফলে আফগানিস্তান নিয়ে তাদের মধ্যে যেকোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিতে পারে বলে মনে করেন রাশিয়ান একাডেমি অব সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট অব ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ভাসিলি কাশিন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় অভিন্ন স্বার্থ আছে রাশিয়া ও চীনের। এক্ষেত্রে কোনো দেশটিই চাইবে না মধ্য এশিয়া অস্থিতিশীল হয়ে উঠুক বা সেখানে মার্কিন উপস্থিতি প্রতিষ্ঠিত হোক।

২৮ শে জুলাই তাজিকিস্তানের দুশানবে’তে চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েই ফেংহে সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সঙ্গে। উদ্দেশ্য ছিল আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। এ সময়ে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য উভয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী সহযোগিতার প্রত্যয় ঘোষণা করেন। এ সপ্তাহে চলমান মহড়ার মধ্যে মধ্য সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার ওরেনবার্গ অঞ্চলে আরেক দফা সন্ত্রাস বিরোধী মহড়া করবে মস্কো ও বেইজিং। পরের মহড়ায় অংশ নেবে ৪ হাজার সেনা। তা অনুষ্ঠিত হবে সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের অধীনে।

যদি আফগানিস্তানের পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে অবনতি হতে থাকে, তাহলে কাশিনের মতে- বেইজিং এবং মস্কো আরো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, আফগানিস্তান যদি মধ্য এশিয়ায় হামলার লঞ্চিং প্যাড হয়ে ওঠে, তাহলে ওই হুমকি নির্মূল করতে চীন ও রাশিয়া যৌথ সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, যদি আফগানিস্তান বা আশপাশের অঞ্চলকে স্থিতিশীল করা প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে আমরা চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বে একটি জোট গঠন হওয়া দেখতে পাব। ওই দেশে এত জটিল অবস্থার মধ্যে কোন দেশই একা ব্যবস্থা নিতে চাইবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *