ইভ্যালির চেয়ারম্যান এমডির ব্যাংক হিসাব তলব

 ইভ্যালির চেয়ারম্যান এমডির ব্যাংক হিসাব তলব

ওয়েব পেজ খুলে শতাধিক প্রতিষ্ঠান কম দামে পণ্য সরবরাহের আশ্বাস দিয়ে লাখ লাখ গ্রাহক সংগ্রহ করে হাজার কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করার অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। এর অংশ হিসেবে ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাসেলের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা গতকাল ই-অরেঞ্জ নামের আরেকটি অনলাইন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৩ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা করেছে।

ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যানের নামে পরিচালিত সব ধরনের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। বুধবার দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বিএফআইইউ থেকে ব্যাংকগুলোতে চিঠি দিয়ে এসব তথ্য চাওয়া হয়। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে। বিএফআইইউর কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সংস্থা তাদের বিষয়ে তদন্ত করছে। এর অংশ হিসেবে ব্যাংক হিসাবের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এদিকে ভ্যাট গোয়েন্দা মহাপরিচালক ড. মইনুল খান কালের কণ্ঠকে বলেন, তদন্তে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মামলার প্রতিবেদন ঢাকা উত্তর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে পাঠানো হয়েছে। অভিযানে কম্পানির স্বত্বাধিকারী সোনিয়ার কাছ থেকে হিসাব বিবরণী জব্দ করা হয়। এতে দেখা যায়, কম্পানিটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে মোট ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫৩ হাজার ২১৫ টাকার পণ্য কিনেছে এবং ২৪৯ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে। পণ্য বিক্রির ওপর ই-অরেঞ্জ তিন কোটি ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৫ টাকা কমিশন পেয়েছে। প্রাপ্ত কমিশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৪ টাকা ভ্যাট প্রযোজ্য হলেও কম্পানিটি মাত্র ছয় লাখ ২৩ হাজার ৭৬৭ টাকা পরিশোধ করেছে। এতে সরকারের ১৩ লাখ ১৬ হাজার ১৫৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *