ওমিক্রন নিয়ে ‘বলির পাঁঠা বানানোর’ অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার

 ওমিক্রন নিয়ে ‘বলির পাঁঠা বানানোর’ অভিযোগ দক্ষিণ আফ্রিকার

ওমিক্রন নামে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) উদ্বেগজনক নতুন ভ্যারিয়েন্টটি আবিষ্কার করায় সাধুবাদের পরিবর্তে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এমন অভিযোগ করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মূলত এই ভ্যারিয়েন্টের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন দেশ দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। দেশটি রীতিমতো একঘরে হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক তথ্য প্রমাণে দেখা গেছে, ওমিক্রনে পুনরায় সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি রয়েছে। অর্থাৎ একবার এই ভ্যারিয়েন্টে কেউ আক্রান্ত হলে তার পুনর্বার আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নতুন ধরনটিকে ‘উদ্বেগজনক’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

ইউরোপে এখন বেশ কয়েকজনের মধ্যে এই ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে দুজন, জার্মানিতে দুজন, বেলজিয়ামে একজন এবং আরেকজন ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রে একজন এই ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলেও নতুন এই ধরনে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। বতসোয়ানা ও হংকংয়েও এ ধরনে আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নেদারল্যান্ডসে আসা শত শত যাত্রীদের পরীক্ষা করা দেখা হচ্ছে তাদের মধ্যে কেউ নতুন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত কিনা।

শনিবার দক্ষিণ আফ্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ‘বিজ্ঞানের চমৎকারিত্বকে প্রশংসা করা উচিত এবং শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।’

নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটি দ্রুত শনাক্ত করতে উন্নত জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সক্ষমতা থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে’।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যখন বিশ্বের অন্য কোনো দেশ নতুন ভ্যারিয়েন্ট আবিষ্কার করেছিল, তখন প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট সৃষ্টির জন্য উন্নত দেশগুলো দায়ী করে আফ্রিকান ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ‘এখন যা হচ্ছে এমনটা হওয়ারই ছিল। বিশ্ব একটি ন্যায়সংগত, জরুরি এবং দ্রুত উপায়ে টিকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় আজ এমন পরিস্থিতি হয়েছে। এটি উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর টিকা মজুদ করার ফলাফল এবং বেশ সত্যি বলতে বিষয়টা মেনে নেওয়া যায় না।’

আফ্রিকান ইউনিয়নের ভ্যাকসিন ডেলিভারি অ্যালায়েন্সের কো-চেয়ার আয়োআদে আলাকিজা বলেন, ‘এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাগুলো রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে হয়, বিজ্ঞানের ভিত্তিতে নয়।’

তিনি বলেন, ‘এটা ভুল হচ্ছে… যেখানে এই ভাইরাসটি ইতোমধ্যেই তিনটি মহাদেশে ছড়িয়েছে, সেখানে আমরা কেন আফ্রিকাকে বন্ধ করে দিচ্ছি?’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *