করোনায় পোশাক খাতের ভ্যালু চেইন ক্ষতিগ্রস্ত

 করোনায় পোশাক খাতের ভ্যালু চেইন ক্ষতিগ্রস্ত

করোনায় বিশ্বব্যাপী তৈরি পোশাক ভ্যালু চেইন বা মূল্য শৃঙ্খল বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সম্প্রতি এ খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তর লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এটি উৎপাদন কাঠামোর পরিবর্তন, ভোক্তাদের চাহিদা, পণ্যের মিশ্রণ, বাজারের গতিশীলতা এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ এ রপ্তানিমুখী খাতের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, তৈরি পোশাক শিল্প ও এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক দল এ ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মুখোমুখি কিভাবে হবে সেটা এখন ভাবনার বিষয়। এ প্রেক্ষাপটে সামনের বছরগুলোতে তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও ভোক্তা চাহিদা পুনরুদ্ধারে যে অসম প্রবণতা রয়েছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তাছাড়া, মহামারি-পূর্ব কাঠামোগত পরিবর্তনের সঙ্গে মহামারি-প্ররোচিত চ্যালেঞ্জগুলো সংশ্লিষ্ট সবাইকে তৈরি পোশাক খাতের ওপর দৃষ্টিপাত করতে বাধ্য করছে। গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে এক ভার্চুয়াল সংলাপে মঙ্গলবার বক্তারা এসব কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশ এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশ এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সিপিডির চেয়ারম্যান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান, বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ড. মোস্তাফিজুর রহমান, গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি রুবানা হক, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী, সিপিডির সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান এবং ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর পংকজ কুমার প্রমুখ।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, মহামারিতে শ্রমিকরা নানা ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। যে কারণে রাষ্ট্র, গার্মেন্ট শ্রমিক, উদ্যোক্তা, গবেষক এবং নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে নেতৃত্ব দিয়ে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিন্ত করতে হবে।’ সিপিডির অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান আলোচনার একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, গার্মেন্ট শিল্পে খুব বড় ধরনের পরিবর্তন আগামী সাত-আট বছরে হবে। আমরা যেহেতু পণ্য রপ্তানি করছি, উৎপাদনশীলতা কমলে এর অভিঘাত শ্রমিকদের ওপরই বেশি পড়বে। রুবানা হক বলেন-শ্রমিকদের আসন্ন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। নতুন ধরনের শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

এ মতিন চৌধুরী বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরে পোশাক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার একটি বড় সুযোগ। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০২১ সালের প্রথম ৬ মাসে ১ হাজার ৩৭৯ খানায় একটি সমীক্ষা জরিপ চালানো হয়। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

জরিপে মূলত মহামারির প্রথম এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে পার্থক্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। দেখা গেছে শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশ প্রথম ঢেউয়ের সময় মজুরি পাননি।

কিন্তু দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালীন প্রায় ৯৮ শতাংশ শ্রমিকই তাদের মজুরি পেয়েছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২০২১ সালের মার্চে খানার আয় প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। সমীক্ষায় অংশ নেয়াদের প্রায় ৬৭ শতাংশ পরিবার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ঋণগ্রস্ত। সেটি প্রথম ঢেউয়ের তুলনায় বেশি।

এ ঋণ পরিশোধ করতে তাদের গড়পড়তা প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। কাজ হারানো শ্রমিকদের মাত্র ২৫ শতাংশ বলেছেন, তারা শ্রমিক ইউনিয়নের ভূমিকায় খুশি আছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *