গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

 গাজীপুরের মেয়র জাহাঙ্গীরের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি কটূক্তি করে দল থেকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ পাওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের ভাগ্য নির্ধারণ হচ্ছে আজ শুক্রবার। তাকে কোনো সাংগঠনিক শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে কিনা বা দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হচ্ছে কিনা- তা জানা যাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক থেকে। যদিও শোকজ নোটিশের জবাবে এরই মধ্যে ওই বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমাও চেয়ে রেখেছেন জাহাঙ্গীর আলম।
আজ শুক্রবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা। বৈঠকে আলোচ্যসূচির সঙ্গে থাকবে আলোচিত মেয়র জাহাঙ্গীর ইস্যুটিও।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করে দেওয়া গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্যসংবলিত একটি ভিডিও গত অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে এ নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় হয়। মেয়রের পদত্যাগ ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে জাহাঙ্গীরকে বহিস্কারের দাবিতে গাজীপুর মহানগরীর কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তবে মেয়র জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ অতি উৎসাহী হয়ে তার বক্তব্যের ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভাইরাল করেছে। তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার।
পরে গত ৩ অক্টোবর দলের স্বার্থ পরিপন্থি কর্মকা ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে শোকজ করে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সই করা শোকজ নোটিশে ১৫ দিনের মধ্যে জাহাঙ্গীরকে এর জবাব দিতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শোকজের জবাব দিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান গাজীপুরের মেয়র। আজ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে এই জবাব নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বৈঠকের এজেন্ডাভুক্ত করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুক্রবারের বৈঠকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। সেখানে চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের বিষয়েও আলোচনা হবে।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলের বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ করছেন এবং বিদ্রোহীদের মদদ দিচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য।
দলীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে চলমান ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক সহিংসতা-সন্ত্রাস ও প্রাণহানির বিষয়েও আলোচনা করা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ইউপি নির্বাচনে দল মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। মেম্বার প্রার্থীরাও একে অপরের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করছেন। এ অবস্থায় দলের করণীয় কী হতে পারে- তা নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হবে আজকের বৈঠকে। সেই সঙ্গে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনার কথা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের এ বৈঠকে দেশের সবশেষ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি দলের অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হবে। এ ছাড়া আগামী বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দিবস, ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে। গত বৈঠকের পর থেকে মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তি ও দলীয় নেতাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপনও করা হবে আজকের বৈঠকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *