ঝালকাঠিতে তীব্র নদী ভাঙন

 ঝালকাঠিতে তীব্র নদী ভাঙন

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিশখালি নদীর ভাঙন। গত কয়েক যুগ ধরে ভাঙনের ফলে ইতোমেধ্যই অসংখ্য পরিবারের ভেটেমাটিসহ বিপুল সম্পত্তি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নতুন করে আবারও তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।
বিশখালি নদীর ভাঙনে গত বুধবার ঝালকাঠির পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের অর্ধেকটা নদীতে হঠাৎ করে বিলীন হয়ে গেছে। এই নদী ভাঙনের দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ করার সময় সাইক্লোন শেল্টার নদীতে ধ্বসে পরে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছে। গত ৫ দিনেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি।
পেনাবালিয়া ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী অংশ অব্যহত ভাঙনের মধ্যেও অবৈধ বালু উত্তোলন থেমে নেই। অভিযোগ রয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করেই অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। ভাঙনকূল থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় নেওয়ারও অভিযোগও রয়েছে।
রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের বাকী অংশসহ বাদুর তলা বাজারের সম্পূর্ন বিলীন হওয়ার আশংকা করছে এলাকাবাসী। হুমকির মুখে রয়েছে বিশখালির তীরবর্তী বড়ইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বড়ইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাঠবড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কয়েকটি বাজার, বেশকিছু বসতবাড়ি, মসজিদসহ অসংখ্য স্থাপনা ও ফসলি জমি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড কতৃপক্ষ জানিয়েছেন, নদী ভাঙন থেকে জেলার বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিশখালি নদীতে পৈত্রিক ভিটা মাটি হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। নদীতে সব হারিয়ে কোন সহায়তা না পেয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে থাকতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক ভাঙনে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারের অর্ধেকটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাংশ এবং একটি সমজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা, ফসলি জমি, বেশকিছু বসতবাড়ি, অসংখ্য গাছপালা, কয়েশ মিটার সড়ক নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে নদী তীরবর্তী বড়ইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বড়ইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মঠবাড়ি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মানকি সুন্দর সাইক্লোন শেল্টার, লঞ্চ টার্মিনাল, বাজার, সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তিন শতাধিক বসতবাড়ি, মসজিদ, কয়েকশ একর ফসলী জমি ও গাছপালাসহ বেশ কিছু স্থাপনা।
বিভিন্ন সময় পনি উন্নয়ন বোর্ডসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করলেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকাবাসীদের ক্ষোভের শেষ নেই।
ঝালকাঠির পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, জেলায় মোট ১৫ কিলোমিটার নদী ভাঙন এলাকা রয়েছে। বেশ কিছু এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্প অনুমোদন সাপেক্ষে বিভিন্ন স্থানে ভাঙন রোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাধ দিতে হবে। অস্থায়ী বাধ দিয়ে ভাঙন রোধ করা যাবেনা। ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হবে, বলেন জেলা প্রশাসক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *