ঝালকাঠির হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজে ধীরগতি

 ঝালকাঠির হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজে ধীরগতি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি:

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা না থাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র শ্বাসকষ্টের রোগীদের ঝুঁকি না নিয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে রোগী ও স্বজনদের অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ। অক্সিজেন সরবরাহের ঘাটতি মেটাতে গত বছরের ২৫ নভেম্বর ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ শুরু হয় এবং প্লান্টের কারিগরি কাজ শেষ হলেও লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে না।
১০০ শয্যার এই হাসপাতালে তিন কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টের কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এক্সপেক্টা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড।
ইতোমধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার অক্সিজেন ট্যাংক। অক্সিজেন লিকুইড এর অভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে সিলিন্ডার দিয়ে করোনা রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা করোনা রোগীর স্বজন আমির উদ্দিন বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় অতিমাত্রার শ্বাসকষ্টের অনেক রোগীদের বরিশাল যেতে বলা হয়।
আরেক রোগীর স্ত্রী শিমুল আক্তার বলেন, আমার স্বামীর জন্য হাসপাতালের বাহির থেকে সেচ্ছাসেবি সংগঠনের মাধ্যমে অক্সিজেন সিলিন্ডার এনেছি।
সদর হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা রোগীর যতক্ষণ পর্যন্ত রেপিড টেস্ট রিপোর্ট পজেটিভ না আসে ততক্ষণ পর্যন্ত সেই রোগীর বেডে অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়া হয়না বলেও অভিযোগ করেছে অনেকে।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট আবুয়াল হাসান বলেন, সেন্ট্রাল অক্সিজেন না থাকায় চিকিৎসা সেবা কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।
আর এ বিষয়ে সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ করেছে। কিন্তু শর্তনুয়ায়ী লিকুইড অক্সিজেন সরবরাহ না করায় প্লাট থেকে অক্সিজেন উৎপন্ন হচ্ছে না। এ বিষয়টা স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগকেও জানানো হয়েছে।
সিভিল সার্জন আরও বলেন, বর্তমানে এই প্লান্টে অক্সিজেন উৎপাদন চালু না থাকায় প্রতিদিন হাসপাতালের জন্য ২০টি বড় আকারের সিলিন্ডারে অক্সিজেন বরিশাল থেকে রিফিল করে আনতে হচ্ছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জানায়, শীঘ্রই কাজ শেষ করা হবে। ১০ হাজার ৪৩৪ লি. ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন এই প্লান্টের কাজ শেষ হলে এর ট্যাংকিতে একবার লিকুইড ভরা হলে তা থেকে উৎপাদিত অক্সিজেন ১০০ জন রোগী তিন মাস ব্যবহার করতে পারবেন বলেও জানায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *