তালেবান ঠেকাতে মিলিশিয়াদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আফগান প্রেসিডেন্ট?

 তালেবান ঠেকাতে মিলিশিয়াদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন আফগান প্রেসিডেন্ট?

মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর থেকেই আরও অস্থীতিশীল হয়ে পড়েছে আফগানিস্তান। দেশটিতে বর্তমানে তীব্র লড়াই চলছে আফগান সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী তালেবানের। এরই মধ্যে দেশটির ৩৪টি প্রদেশের ৯টিই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। সর্বশেষ গজনি শহরে প্রবেশ করেছে তারা। সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তালেবানের তীব্র লড়াই চলছে।

এদিকে, তালেবানের অগ্রযাত্রাকে সামনে রেখে আফগানিস্তানে সেনাপ্রধানকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।  এমতাবস্থায় তালেবানবিরোধী ঐতিহ্যবাহী মিলিশিয়াদের সঙ্গে বৈঠক করতে উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফে সফর করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি।

বুধবার সেনাপ্রধান ওয়ালি মোহাম্মদ আহমাদজাইরকে অপসারণের খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। গত জুন থেকে তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার উত্তরসূরিকে দেশজুড়ে তালেবানের সহিংসতা মোকাবিলা করতে হবে।

নৃতাত্ত্বিক উজবেক নেতা আবদুল রশিদ দোস্তাম ও নৃতাত্ত্বিক নেতা আত্তা মোহাম্মদ নুরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। দোস্তাম বলেন, তালেবান বেশ কয়েকবার উত্তরাঞ্চলে এসেছে। কিন্তু প্রতিবারই তারা ফাঁদে আটকা পড়ে গেছেন।

আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করতে যুদ্ধবাজ নেতাদের সবসময় দূরে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করেছেন আশরাফ গনি। কিন্তু তালেবানের হামলার মুখে এবার তাদের দারস্থ হতে হয়েছে তাকে।

উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের সীমান্তে মাজার-ই-শরিফের অবস্থান। তালেবানের হাতে শহরটির পতন হলে উত্তর আফগানিস্তানের ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে আশরাফ গনি সরকার।

আফগানিস্তানের একটি বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র মাজার-ই-শরিফ। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে দেশটির সরবরাহ পথ বলা হয় এই শহরটিকে। শহরটির গুরুত্ব উপলব্ধি করেই সেখানে সফর করেছেন আশরাফ গনি। সেখানকার স্থানীয় নেতা ও যুদ্ধবাজদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছেন।

সর্বশেষ ১৯৯০-এর দশকে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল তালেবান। তখন প্রতিদ্বন্দ্বী দোস্তামের সঙ্গে তাদের সন্ধি হওয়ায় খুব একটা প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি।

এদিকে ত্রিশ দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে তালেবান বিদ্রোহীরা। আর নব্বই দিনে রাজধানী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে তারা। বুধবার মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এমন দাবি করেছেন।

জানা গেছে, বর্তমানে আফগানিস্তানের ৬৫ শতাংশ অংশের নিয়ন্ত্রণ তালেবানের হাতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *