ফখরুলের বক্তব্য ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’র মতো

 ফখরুলের বক্তব্য ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’র মতো

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আজ আষাঢ়ে গল্প ফেঁদেছে। বঙ্গবন্ধু হত্যায় নাকি আওয়ামী লীগ জড়িত এবং সরকার নাকি জিয়াউর রহমানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে চাইছে। বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্য অনেকটা ‘ঠাকুর ঘরে কে রে, আমি কলা খাই না’র মতো।

মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বাসভবনে ব্রিফিংয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় মির্জা ফখরুলের বক্তব্য অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, আগস্ট মাস এলেই বিএনপি রক্তাক্ত অতীতের অন্তর্জালা নিয়ে অস্থির হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যার কুশীলব কারা, তা এখন জাতির কাছে স্পষ্ট। কারা হত্যাকাণ্ডের বেনিফিশিয়ারি, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনি মোশতাক কাকে সেনাপ্রধান করেছিল, জিয়ার ভূমিকা কি ছিল, খুনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে কার কাছে রিপোর্ট করেছিল, তখন জিয়ার মন্তব্য কি ছিল? এসব ঐতিহাসিক সত্য বিএনপি নেতারা নতুন করে বাকপটুতায় ধামাচাপা দেওয়ার নির্লজ্জ ব্যর্থ চেষ্টা করছে। যা করেও কোনো লাভ নেই।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির ‘শিবের গীত’ জনগণের কাছে এখন পরিষ্কার। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের কারা নিরাপদে বিদেশে চলে যেতে সহযোগিতা করেছিল? কারা পুনর্বাসন ও পুরস্কৃত করেছিল, দূতাবাসে কে চাকরি দিয়েছিল?

এসব প্রশ্নের জবাব চেয়ে তিনি বলেন, তা না হলে জিয়াউর রহমানকে ‘ধোয়া তুলসি পাতা’ বানানোর অপচেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রক্তমূল্যে অর্জিত স্বাধীন দেশের সংবিধানে খুনিদের রক্ষায় ইনডেমনিটির বিধান ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে কে সংযোজন করেছিলেন? জিয়াউর রহমান যদি এতই নিষ্পাপ হন, তাহলে বিচার বন্ধ করলেন কেন? এতসব প্রশ্নের জবাব নিশ্চয়ই বিএনপি দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, বিএনপি কথায় কথায় মানবাধিকারের কথা বলে। গণতন্ত্রের কথা বলে। অথচ সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার ২১ বছর পর্যন্ত আমরা কোনো বিচারই চাইতে পারিনি। বিচার চাওয়ার অধিকার পর্যন্ত জিয়াউর রহমান কেড়ে নিয়েছিলেন। আর এখন মিষ্টি মিষ্টি কথায় নতুন ইতিহাসের প্রলাপ বকছেন।

আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে বহুদলীয় তামাশা আর কারফিউ গণতন্ত্রের চালু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। ক্ষমতায় থেকে প্রহসনের নির্বাচন করেছিলেন। হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমে এ দেশের নির্বাচনের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছেন জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, আমরা জিয়ার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে যাব কেন? সময়ের ধারাবাহিকতায় চুল-চেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইতিহাসই যার যার স্থান নির্ধারণ করে দেয়। ইতিহাসের ভিলেনকে জোর করে ইতিহাসের নায়ক বানানো যায় না।

তিনি আরও বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে খুন এবং হত্যাকাণ্ডের চর্চা বিএনপির নিজস্ব পেটেন্ট। তারা এখনও হত্যার রাজনীতি ছাড়তে পারেনি, তার প্রমাণ ১৫ আগস্ট, ৩ নভেম্বর ও ২১ আগস্ট।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে হাওয়া ভবন থেকে গ্রেনেড হামলার নির্দেশনা ও মনিটরিং করে। বেগম জিয়া সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা নাকি বেনিটি ব্যাগে করে বোমা নিয়ে গিয়েছিলেন। তাহলে জজ মিয়া নাটক কেন সাজিয়েছিলেন? কেন হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করেছিলেন?

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নসিহত না করে আগে নিজেরা পরিশুদ্ধ হোন। আওয়ামী লীগ জন্মলগ্ন থেকে জনমানুষের রাজনীতি করে, মানুষের চোখের ভাষা ও মনের ভাষা বুঝেই শেখ হাসিনা রাজনীতি করছেন এবং সরকার পরিচালনা করছেন। বিএনপি নিজেদের দুর্গন্ধময় ইতিহাস থেকে বেরিয়ে আসুক, যদি তারা সত্যিকার অর্থে এ দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি করতে চায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *