বঞ্চিত মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা শেখ হাসিনা

 বঞ্চিত মানুষের আশ্রয়ের ঠিকানা শেখ হাসিনা

রাজন ভট্টাচার্য

দেশের কোনো এলাকায় যদি সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, হত্যা, নির্যাতনসহ যে কোনো বড় রকমের সহিংস ঘটনা বা প্রকৃতিক দুর্যোগের খবর গণমাধ্যমে আসে, তাহলে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনীতি হয়ে সেই বার্তা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কান পর্যন্ত পৌঁছাতে সময় লাগে না। সামাজিক যে কোনো বড় রকমের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালীরা দ্বিধা বিভক্ত হয়। প্রশাসনও শক্তিশালী পক্ষে অনেক সময় অবস্থান নেয়।
সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী যদি প্রকৃত খবরটি পান তাহলে একটা সুষ্ঠু বিহিত হবেই। ন্যায় বিচার পাবেন নির্যাতিত মানুষ। আইনের মুখোমুখি হবে অপরাধীরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে মানুষ আশায় বুক বেঁধে বসে থাকে- শেখ হাসিনা পাশে আছেন। সবাই সরকারের সহযোগিতা পাবেন। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানো তাদের জন্য কঠিন কিছু হবে না। সারের সংকট হলে কৃষকরা আশায় থাকেন- শেখ হাসিনা জানলে ফসল নষ্ট হবে না। যে কোনো মূল্যে তিনি কৃষি উপকরণের যোগান দেবেন। সমস্যার সমাধান করবেন। জাতির জনকের কন্যা বলে কথা নয়, শেখ হাসিনার প্রতি এখনও অনেকের এমন বিশ্বাস বা আস্থা এমনই। এরকম আস্থার জায়গাটি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অর্জন। যা মানুষের অন্তর থেকেই তৈরি হয়েছে।
দুই.
বাংলাদেশে সংকটের শেষ নেই। রাত পোহালেই নতুন অনেক সমস্যার জন্ম হয়। এগুলো সমাধান হতে না হতেই পুরনো গুলো ছাপিয়ে নতুন অনেক কিছু সামনে চলে আসে। তাই এদেশের গণমাধ্যম নিয়মিত সুখবর নিয়ে প্রকাশিত হয় না। অথচ বিশ্বের অনেক দেশ আছে সেখানকার গণমাধ্যমে খারাপ খবর লেখার কিছু নেই। সব ভালো, তাই আরো ভালো খবর নিয়ে প্রতিদিন পাঠকের কাছে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। আমাদের দেশে মন্দের ভীড়ে যেমন ভালো খবরগুলো দেয়ার সুযোগ থাকে না, অনেক দেশে ভালো খবরগুলোই মূল খবর। দু-একটি মন্দ ঘটনা ঘটলে সেগুলো সাধারণ ভেবে গণমাধ্যমগুলো অনেক সময় প্রকাশ এড়িয়ে চলে। আবার দু-একটি মন্দ ঘটনা সমাজ, রাষ্ট্র তথা গোটা রাজনীতিকে ভাবিয়ে তোলে। যা সমাধানে সব পক্ষ থেকেই দ্রুত তৎপর হতে দেখা যায়।
কিন্তু আমাদের দেশে কী দেখা যায়, বছর ধরে সামাজিক, রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করে। পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। খাদ্য সংকট দেখা দেয়। নানা সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে উঠে আসে। বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের থাবায় নিঃস্ব হয় মানুষ। অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, সামাজিক অপরাধ, উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, অর্থনৈতিক সংকট, বিনিয়োগ সমস্যা, গ্যাং কালচার, দখল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, শ্রম বাজারে ধসসহ বহুমাত্রিক সমস্যা মাথায় নিয়ে সরকারকে পথ চলতে হয়। এর সঙ্গে রয়েছে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও। এসব সমস্যা তো একদিনে তৈরি হয়নি। অনেক আগে থেকেই ছিল। চলমান নানা সমস্যা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ সরকারের পথচলার ১৩ বছরের মাথায় করোনা মহামারির ধাক্কা। এতোকিছুর পরেও কিন্তু বৈশ্বিক উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। সবকিছু সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকার কারণেই। কারণ মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী তিনি। থেমে যাওয়া বিশ্বাস করেন না।
তাঁর ৭৫তম জন্মদিন যখন পালন হচ্ছে তখন দল বা সরকার প্রধান হিসেবে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আপনার প্রবল মানসিক শক্তি দেশের মানুষকে এগিয়ে চলার সাহস ও শক্তি যোগায়। এর ধারাবাহিকতা আপনাকেই ধরে রাখতে হবে। কারণ আপনার চোখ দিয়ে দেখা স্বপ্নে বিভোর ১৬ কোটি মানুষ। অর্থাৎ এগিয়ে চলার বাংলাদেশে আপনার সঙ্গে স্বপ্নের সারথি গোটা জাতি।
তিন.
শেখ হাসিনার কাছে আগামী প্রজন্মের প্রত্যাশা হলো, শহর হবে গ্রাম। দুর্নীতিমুক্ত হবে বাংলাদেশ। অব্যাহত থাকবে দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযান। বেকারত্ব ঘুঁচবে। সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হবে। রাজনীতি থাকবে প্রকৃত দেশপ্রেমিক মানুষের হাতে। আধুনিক চিন্তা ও সিদ্ধান্তে দেশের গণতন্ত্রের ভীত আরো মজবুত হবে। নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আর কোন প্রশ্ন উঠবে না। এজন্য আপনার হাত দিয়ে একটি স্থায়ি সমাধান চায় সচেতন মানুষ। সামনের দিনগুলোতে সকলের প্রত্যাশা দেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। মজবুত হবে দেশের অর্থনৈতিক ভীত। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা নিয়ে শত বছরের করা ডেল্টা প্ল্যান বাস্তবায়ন শুরু হবে। যানজটমুক্ত হবে রাজধানী। গ্রামে গ্রামে পৌঁছাবে সব রকমের নাগরিক সুবিধা। রাষ্ট্রের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতায় তরুণরা হবে উদ্যোক্তা। সবখানে সমান কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে শহরমুখি কমবে মানুষের স্রোত। নৌ ও রেলপথ হবে আরো গতিশীল। উগ্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকার কোনো অবস্থাতেই আপোস করবে না। ’৭২-এর সংবিধানে ফিরবে রাষ্ট্র। আপনার উপস্থিতিতেই ২০৪১ খ্রিষ্টাব্দের বদলের যাওয়া বাংলাদেশ উপভোগ করবে গোটা জাতি। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ও বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গড়ে তোলার বাঁশিওয়ালা কিন্তু আপনিই।
চার
১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। আর ঐ বছরেরই ১৭ মে দীর্ঘ ৬ বছর প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা। নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে এবং সে বছরের ২৩ জুন প্রথমবারের মত দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জয়লাভ করেন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার স্বপ্ন তিনি হয়ত ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে দেখতে শুরু করেন। তার দেখা স্বপ্ন বিফলে যায়নি। অনেক স্বপ্ন সফল হয়েছে। তাই দেশ ও মানুষের প্রয়োজনে শেখ হাসিনার ভালো কাজগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনার কিছু নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে দীর্ঘদিন জমে থাকা যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়েছেন আপনি। এজন্য আপনার প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হয়ত কিছু ভুল বোঝাবুঝি আছে। তবে আপনার প্রতি প্রত্যাশার জায়গাটুকু কখনই নষ্ট হবে না। বিশ্বাস আছে আপনি পারবেন। আশা করি, সামনের দিনগুলোতে আপনার কর্ম ও সিদ্ধান্তে সবার শতভাগ আস্থা ফিরবে। আপনি সাধারণ মানুষের আস্থার ঠিকানা হয়ে থাকুন যুগ যুগ।

লেখক: সাংবাদিক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *