মিরপুরে ঝড় তুলতে চান সিয়ার্স

 মিরপুরে ঝড় তুলতে চান সিয়ার্স

লকি ফার্গুসন, অ্যাডাম মিলনে, স্কট কুগেলেনরা আসেননি বলে ভাববেন না পেস আক্রমণ থেকে নিস্তার মিলবে টাইগারদের। নতুন এক গতি তারকা নিয়ে ঢাকায় এসেছে কিউইরা। ঝড় তুলতে এসেছেন ওয়েলিংটনের ফাস্ট বোলার বেন সিয়ার্স। ২৩ বছর বয়সী এই পেসার নিয়মিতই ১৪০ কিমির ওপরে গতিতে বোলিং করতে পারেন। মাত্র ১২টি টি২০ ম্যাচের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সফরে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে।

গ্যারি স্টিডের অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত কোচ হয়ে এসেছেন গ্লেন পোকনাল। ওয়েলিংটনের এই কোচই সিয়ার্সের আবিস্কারক। সিয়ার্সের বয়স যখন ১৩, তখন তাকে স্কুল ক্রিকেটে একটি ম্যাচ খেলতে দেখেন পোকনাল। ওই কিশোর বয়সে তার এক্সপ্রেস গতি দেখে মুগ্ধ হয়ে যান তিনি। দশ বছর আগের সেই স্মৃতি এখনও দিব্যি মনে আছে পোকনালের, ‘তার বল খেলতে গিয়ে ব্যাটসম্যানরা কেবল স্কয়ার লেগের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ছিল। গতির কারণে খেলতেই পারছিল না। পাঁচ ওভারের মধ্যে সে চারবার স্টাম্প ছত্রখান করে দিয়েছিল।’

প্রায় এক যুগ পর ওয়েলিংটন ফায়ার বার্ডসের হয়ে ‘সুপার স্ম্যাশ টি২০’-তে একই রকম দাপট দেখান সিয়ার্স। ওটাগো ভোল্টস ও ক্যান্টারবারি কিংসের বিপক্ষে মোট ৮ ওভারে ৫৫ রান দিয়ে ৭ উইকেট নেন তিনি। উইকেট পাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার দাপুটে বোলিং। দুটি ম্যাচে কোনো ব্যাটসম্যান তার বল স্বচ্ছন্দে খেলতে পারেননি। এক্সপ্রেস গতির সঙ্গে লেন্থের বৈচিত্র্য দিয়ে তিনি ব্যাটসম্যানদের বেশ ঝামেলায় ফেলে দেন। সুইং করাতেও বেশ দক্ষ ২৩ বছরের এ তরুণ।

সিয়ার্সের গড়ে ওঠার পেছনে অবদান রয়েছে ওয়েলিংটনের অভিজ্ঞ পেসার হ্যামিশ বেনেটেরও। সিয়ার্স বোলিংয়ে গেলেই দেখা গেছে মিড অফ বা মিড অনে চলে আসেন বেনেট। সেখানে দাঁড়িয়ে প্রায় প্রতি বলেই অনুজ এই পেসারকে পরামর্শ দেন। এভাবে অল্প দিনের মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজেকে সবচেয়ে কার্যকরী টি২০ বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন সিয়ার্স। হ্যামিশের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান তার গড়ে ওঠার পেছনে যে বড় অবদান রেখেছে, তা জানিয়েছেন কোচ পোকনালও।

এই কোচ জানান, সিয়ার্সের মূল অস্ত্র হলো পেস। আর গত দেড় বছরে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণও আয়ত্ত করে ফেলেছেন তিনি। তাকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত সাবেক কিউই তারকা পেসার শেন বন্ডও। টি২০ বিশ্বকাপের জন্য নিউজিল্যান্ডের কোচিং স্টাফে যোগ দেওয়া এই পেসারের প্রত্যাশা, উপমহাদেশের মরা পিচেও ঝড় তুলবেন সিয়ার্স!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *