মোটরসাইকেলে প্রাণহানি বেড়েছে

 মোটরসাইকেলে প্রাণহানি বেড়েছে

মেয়ে সানজিদা আক্তার (১৫) ও ভাগনি ফাহমিদা আক্তারকে (১৬) নিয়ে মোটরসাইকেলে আরিফুর রহমান লক্ষ্মীপুর পৌর শহর থেকে রায়পুর উপজেলার কেরোয়া গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন। সদর উপজেলার পালেরহাট পৌঁছালে সানজিদা ও ফাহমিদা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যায়। এ সময় রামগঞ্জ থেকে আসা দ্রুতগতির একটি ট্রাক তাদের চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যায়। সানজিদা লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ও ফাহমিদা ঢাকার সেগুনবাগিচা গার্লস হাই স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। ঘটনাটি ১৭ নভেম্বরের।

রাজধানীর হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) ধাক্কা দেয়। এতে তিনি আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যান। পেছনে থাকা মোটরসাইকেলটি পড়ে গেলেও দ্রুত উঠে চালক মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান। অনেক সময় ধরে পড়েছিলেন আনোয়ার। কেউ তাকে ধরছিল না। পরে একজন পথচারী তাকে উদ্ধার হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। আনোয়ার আরমান অ্যাপারেলস লিমিটেডের মেকানিকস সুপারভাইজার ছিলেন। ঘটনাটি ২৬ মের।

শুধু সানজিদা, ফাহমিদা আর আনোয়ার নয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৬৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৭৫৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। গত বছর একই সময়ে ১ হাজার ১১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ১ হাজার ২৬ জন। এ হিসাবে গত ১০ মাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেড়েছে ৬৩ দশমিক ৬০ শতাংশ এবং প্রাণহানি বেড়েছে ৭১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

শনিবার গণমাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত খবরের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ বছর এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৪ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ হাজার ৩২৭ জন। এর মধ্যে ৬৬৯ জন শিক্ষার্থী ও ৭২ জন শিক্ষক। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মারা গেছেন ১৫১ পথচারী। তবে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ১২টি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কিশোর-যুবকদের বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালানো, অতি উচ্চগতির মোটরসাইকেলের সহজলভ্যতা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা না থাকা, পারিবারিকভাবে সন্তানদের বেপরোয়া আচরণ প্রশ্রয় দেওয়া, রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতায় কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে, গত ১০ মাসে ২ হাজার ৭৪৯টি যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। এর মধ্যে মোটরসাইকেল ১ হাজার ৭১৯টি, বাস ১৯৪টি, ট্রাক ৪৮১টি, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি, লরি ১৭২টি, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেট কার ৫৬টি, থ্রি হুইলার (ইজিবাইক, অটোরিকশা, অটোভ্যান, নছিমন, ভটভটি, টমটম) ১১৩টি এবং প্যাডেল রিকশা ও বাইসাইকেল ১৪টি।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৫ লাখ মোটরসাইকেল চলছে। শুধু রাজধানীতেই চলছে ১২ লাখের বেশি। মানসম্মত গণপরিবহনের অভাব এবং যানজটের কারণে মোটরসাইকেলের ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। মোটরসাইকেল চার চাকার যানবাহনের তুলনায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *