যেসব দেশে ছড়াল ওমিক্রন, মৃত্যুর কোনো খবর নেই: ডব্লিউএইচও

 যেসব দেশে ছড়াল ওমিক্রন, মৃত্যুর কোনো খবর নেই: ডব্লিউএইচও

আতঙ্কের নতুন নাম যেন ওমিক্রন। কেউ বলছেন করোনার এই নতুন প্রজাতির সংক্রমণ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে, কেউ বলছেন এই অতিমাত্রার সংক্রমণই আগের বিপজ্জনক স্ট্রেনগুলির দাপট কমিয়ে দেবে। বাস্তবে যে কী হবে, তা নিয়ে এখনও কোনও মহলই নিশ্চিত নয়। 

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম খোঁজ মেলার পরে আরও ১২টি দেশে খুব দ্রত ছড়িয়েছিল এই নতুন স্ট্রেন। তবে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসের নতুন ধরন অমিক্রন ৩৮ দেশে শনাক্ত হয়েছে। তবে এ পর্যন্ত এই ধরনে আক্রান্ত কারও মৃত্যু হয়নি। শুক্রবার (৩ ডিসেম্বর) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এসব তথ্য জানিয়েছে। ব্যাপকভাবে জিনগত রূপ পরিবর্তনে সক্ষম এই ধরনের বিস্তার ঠেকাতে বিশ্বব্যাপী নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। খবর এএফপির।ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণে এখনো কোনো মৃত্যুর কথা তারা জানতে পারেনি। তবে নতুন এই ধরন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় সব দেশকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী কয়েক মাসে ইউরোপে মোট কোভিড সংক্রমণের অর্ধেকই হতে পারে ওমিক্রনের কারণে।

ওমিক্রন নিয়ে প্রাথমিক একটি গবেষণা প্রকাশ করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিজ্ঞানীরা। সেখানে দেখা গেছে, ডেলটা ও বেটা ধরনের তুলনায় ওমিক্রনের পুনরায় সংক্রমিত করার ক্ষমতা তিন গুণ বেশি। এছাড়া আগে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে গড়ে ওঠা প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা ওমিক্রনের রয়েছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় নভেম্বর মাসের শুরু থেকেই বিভিন্ন রোগীদের শরীরে নতুন নতুন উপসর্গ শুরু হয়। করোনা পরীক্ষাতে ভাইরাসের এস-জিনের অনুপস্থিতি চোখে পড়ে সে দেশের বিজ্ঞানীদের। এরপরে অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, এটি নতুন স্ট্রেন। 

এই নতুন স্ট্রেনটির সংক্রমণ ও মারণ ক্ষমতা নিয়ে এখনও বেশিটাই অজানা। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজ়িজ় প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল বা ইসিডিসি-র ডিরেক্টর অ্যান্ড্রিয়া অ্যামন এ বিষয়ে বলেন, এখনও অনেক কিছু অজানা। ফলে পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। সংক্রমণের গতি যতটুকু কমানো সম্ভব, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। টিকাকরণের গতি বাড়ানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে পারস্পরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখা, মাস্ক পরা, ঘরের মধ্যে হাওয়া চলাচল ঠিক রাখার বিষয়ে নজর দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *