রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুত সংযোগ পাচ্ছে সাড়ে ২৯ হাজার পরিবার

 রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুত  সংযোগ পাচ্ছে সাড়ে ২৯ হাজার পরিবার

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিদ্যুতের ঝলমলে আলোয় আলোকিত হবে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ রাঙ্গাবালী। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ পেতে যাচ্ছে নদী ও সাগর বেষ্টিত এ জনপদের মানুষ। সেই মাহেন্দ্রক্ষণের প্রতিক্ষায় এখন সবাই।
সব ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সুবিধা পেতে যাচ্ছে দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষ।
প্রাথমিক পর্যায় সাড়ে ২৯ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির তথ্যমতে, কোন প্রতিবন্ধকতা না থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাতি জ্বলবে সংযোগ পাওয়া প্রত্যেকটি ঘরে ।
জানা গেছে, জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে বিদ্যুৎ সেবা দিতে ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এই উপকেন্দ্র থেকে রাঙ্গাবালী, ছোটবাইশদিয়া, বড়বাইশদিয়া ও মৌডুবি ইউনিয়নের ১৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আসবে। চরফ্যাশন থেকে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে ৯ হাজার ও গলাচিপা থেকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে সাড়ে ৪ হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধায় আনা হবে।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ১১৯৪ কিলোমিটার সংযোগ লাইনের কাজ চলমান। ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাবুরহাট থেকে মুজিবনগর হয়ে চরকাজল-চরবিশ্বাস অতিক্রম করে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তলদেশ দিয়ে দুই কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে রাঙ্গাবালী উপকেন্দ্রে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছবে। একইভাবে পার্শ্ববর্তী উপজেলা গলাচিপার চরকারফারমা হয়ে আগুনমুখা নদীর তলদেশ দিয়ে এক কিলোমিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎ পৌঁছবে। চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর হয়ে নলুয়া স্লুইসখাল থেকে সাড়ে ৮ শ’মিটার সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে লক্ষ্মীরচর দিয়ে চরমণ্ডলের একটি নদী দিয়ে চরমোন্তাজ ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছতে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের কাজ চলছে।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (গলাচিপা-রাঙ্গাবালী) প্রকৌশলী মাইনউদ্দীন আহমেদ বলেন, আমাদের টার্গেড চলতি মাসের মধ্যে সাব-স্টেশন পর্যন্ত বিদ্যুৎ নিয়ে আসা। সাব-স্টেশন চালু হয়ে গেলে যে ক’জন গ্রাহককে সংযোগ দিয়ে মিটার লাগানো যাবে। তাদের দিয়েই পরীক্ষামূলক শুরু করার চেষ্টা করবো। ওয়্যারিং ও মিটার লাগানোর কাজ চলতি মাসের শুরু থেকেই দ্রুত গতিতে চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ এ উপজেলার মানুষের কাছে স্বপ্নের মত। সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ পৌঁছলে এ উপজেলার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। ফলে সম্ভাবনার এ হাত ছানিতে আনন্দিত মানুষ।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য মহিব্বুর রহমান মহিব বলেন, রাঙ্গাবালীতে বিদ্যুতের জন্য ২০১৯ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ প্রতি মন্ত্রীকে ডিও লেটার দিয়েছি। প্রধান মন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টাকে অবহিত করেছি। জাতীয় সংসদে একাধিকবার উত্থাপন করেছি। মুজিববর্ষে শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগ ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে রাঙ্গাবালীতে। তাই দুর্গম এ জনপদে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রধান মন্ত্রীর প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবে এখানকার মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *