সেই দুই জাপানি শিশুর অভিভাবকত্ব প্রশ্নে আজ রায় দেবে হাই কোর্ট

 সেই দুই জাপানি শিশুর অভিভাবকত্ব প্রশ্নে আজ রায় দেবে হাই কোর্ট

জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তাদের বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে নাকি মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে জাপানে চলে যাবে, এ বিষয়ে আজ রায় দেবে হাই কোর্ট। দুই দেশের দুজন নাগরিকের সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে এটাই প্রথম রায় হতে যাচ্ছে। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য আজ বিকালে সাড়ে ৩টার সময় নির্ধারণ করেছে। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কার্যতালিকা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিন মাসের বেশি সময় ধরে হাই কোর্টে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনার অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াই চলছে। শিশুদের মা নাকানো এরিকোর পক্ষে আইনি লড়াই করছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। অন্যদিকে শিশুদের বাবা ইমরান শরীফের পক্ষে আইনি লড়াই করছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল ও অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ। উভয়পক্ষে তারা বিভিন্ন আইনি যুক্তি, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মামলার রেফারেন্স আদালতে উপস্থাপন করেছেন। আজ রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে হাই কোর্টে জাপানি দুই শিশু নিয়ে আইনি লড়াই শেষ হতে যাচ্ছে। তবে হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে উভয়পক্ষ আপিল করতে পারবে। গত ১ নভেম্বর জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা বাংলাদেশে তার বাবা ইমরান শরীফের কাছে থাকবে নাকি মা নাকানো এরিকোর সঙ্গে জাপানে চলে যাবে, সে বিষয়ে শুনানি শেষ হয়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক স্বামী ইমরান শরীফের কাছ থেকে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানকে ফিরে পেতে গত ১৯ আগস্ট হাই কোর্টে রিট করেন জাপানি নারী নাকানো এরিকো। ওই দিন রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাই কোর্ট দুই শিশুকে হাজির করতে নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশের পর ২২ আগস্ট দুই শিশুকে বাবা ইমরানের বারিধারার বাসা থেকে উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে আদালতের নির্দেশেই তাদের উইমেন সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়। দুই পক্ষের আইনজীবী শিশু দুটিকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার থেকে ভিন্ন কোনো জায়গায় নিয়ে যেতে আদালতের কাছে আবেদন করেন। আদালত তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানের একটি বাসায় বাবা-মাকে সময় ভাগ করে যৌথভাবে থাকার নির্দেশ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *