স্যাটেলাইট বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

 স্যাটেলাইট বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যখন প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক করছিলেন, ঠিক তখনই স্যাটেলাইন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে রাশিয়া। এই পরীক্ষার ফলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থানকারী ক্রুদের জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তারা প্রচণ্ড ঝুঁকিতে ছিলেন। এ জন্য রাশিয়া বিপজ্জনক ও দায়িত্বহীনের মতো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে বলে নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পরীক্ষায় রাশিয়ার নিজস্ব একটি স্যাটেলাইটকে গুঁড়ো করে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এর ফলে যে ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়েছে মহাকাশে তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে আইএসএসের ক্রুরা ক্যাপসুলের ভিতর আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই স্টেশনে বর্তমানে সাতজন ক্রু আছেন। তার মধ্যে চারজন যুক্তরাষ্ট্রের, একজন জার্মানির এবং দু’জন রাশিয়ান।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন পৃথিবী থেকে প্রায় ৪২০ কিলোমিটার উপরে তার কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নেড প্রাইস ব্রিফিংয়ে বলেছেন, রাশিয়ান ফেডারেশন বেপরোয়াভাবে তাদের নিজস্ব একটি স্যাটেলাইটে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এই পরীক্ষা ছিল ধ্বংসাত্বক। এই পরীক্ষার ফলে কমপক্ষে ১৫০০ পিস ধ্বংসস্তূপের খন্ড সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান। আরো ছোট কয়েক হাজার পিসও কক্ষপথে ঘূর্ণায়মান। বর্তমানে এসব ধ্বংসস্তূপ সব জাতির হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাশিয়ার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসার প্রশাসক বিল নেলসন। তিনি বলেন, মহাকাশে মনুষ্যবাহী ফ্লাইট চালানোর দীর্ঘ এবং ঐতিহ্য আছে রাশিয়ার। তারা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও তার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জ্যোতির্বিদদেরকেই বিপন্ন করেছে এমন নয়। একই সঙ্গে তারা নিজেদের জ্যোতির্বিদ এবং চীনের ‘টাইকোনাট’, যারা চীনের স্পেস স্টেশনে অবস্থান করছেন- তাদেরও ক্ষতি করেছেন। রাশিয়ার এমন কর্মকাণ্ড অচিন্তনীয় ব্যাপার।

তবে এই পরীক্ষাকে অতো জটিল নয় বলে আখ্যায়িত করেছে রাশিয়ার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা রোসকসমস। সংস্থাটি টুইটে বলেছে, যেসব বস্তু কক্ষপথে ছিল তা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের কক্ষপথ থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ক্রুদেরকে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করতে হয়েছে। এই স্টেশনটি গ্রিন জোনে অবস্থিত।
এই পরীক্ষায় রাশিয়া তার স্যাটেলাইন কসমক-১৪০৮’কে ভেঙে ফেলেছে বলেই মনে হচ্ছে। এই গোয়েন্দা স্যাটেলাইনটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ১৯৮২ সালে। এর ওজন এক টনের বেশি।

পাশাপাশি বেশ কয়েক বছর আগে তা অকেজো হয়ে পড়ে। ওদিকে মহাকাশে ধ্বংসাবশেষ শনাক্তকারী কোম্পানি লিওল্যাবস বলেছে, নিউজিল্যান্ডে তাদের রাডার ব্যবস্থাপনা মহাকাশে বহু অনাকাঙ্খিত বস্তু দেখতে পেয়েছে। এটি হতে পারে ওই স্যাটেলাইটের ধ্বংসাবশেষ। আর তা দীর্ঘ সময় মহাকাশে অক্ষত অবস্থায় থেকে যেতে পারে।

রাশিয়ার এই কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক এবং দায়িত্বহীনের বলে অভিহিত করেছেন নেড প্রাইস। এতে প্রমাণ হয়, রাশিয়া মহাকাশে অস্ত্রায়ণের বিরোধিতা করার যেসব দাবি রাশিয়া করেছে তা শুধু কথার কথা, তাত্ত্বিক।

তাদের এই দায়িত্বহীনের মতো কাজের জবাবে আমাদের অংশীদার ও মিত্ররা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে। অন্যদিকে বৃটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস বলেছেন, রাশিয়ার এই পরীক্ষা এটাই প্রমাণ করে যে, তারা মহাকাশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতাও পুরোপুরি অসম্মান করে। তাদের এই পরীক্ষা থেকে যে ধ্বংসাবশেষ সৃষ্টি হয়েছে, তা মহাকাশেই থেকে যাবে। এসব ধ্বংসাবশেষ সামনের বছরগুলোতে মহাকাশ গবেষণায় মানুষের জন্য ঝুঁকি হয়ে উঠবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *