১০ বছর কনডেম সেলে বন্দি থাকার পর খালাস পেলেন বাগেরহাটের সাহেব আলী

 ১০ বছর কনডেম সেলে বন্দি থাকার পর খালাস পেলেন বাগেরহাটের সাহেব আলী

স্ত্রী হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত বাগেরহাটের সাহেব আলী ফকির। প্রায় ১০ বছর ধরে কনডেম সেলে বন্দি ছিলেন। কিন্তু সবশেষ গতকাল রোববার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তাকে খালাস দেয়। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকলে অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ভার্চ্যুয়াল বেঞ্চ এই রায় দেন।

মামলার বাদী নিহতের বাবা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, পুলিশ তাকে মামলা করতে বাধ্য করেছেন। আর আসামি ১৬৪ ধারায় দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, পুলিশ তাকে নির্যাতন করে জবানবন্দিতে বাধ্য করেছে। এছাড়া নিহতের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্যাতনের কোনো চিহ্ন নেই। ভিকটিম আত্মহত্যা করেছে বলে প্রতীয়মান হয়। এসব বিবেচনায় নিয়ে দেশের সর্বোচ্চ আদালত খালাস দেন সাহেব আলীকে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। অপরদিকে, আসামিপক্ষে ছিলেন রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী এডভোকেট এসএম আমিনুল ইসলাম।
নথি থেকে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৮শে নভেম্বর স্ত্রী শিউলী বেগমকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট থানার আডুয়াদিঘী গ্রামের সাহেব আলী ও তার তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই দিনই সাহেব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর নি¤œ আদালত ২০১০ সালের ১৫ই জুন সাহেব আলী ফকিরকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আর খালাস দেন অপর তিন ভাইকে। সাহেব আলীর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় হাইকোর্টে। সাহেব আলী হাইকোর্টে আপিল করেন। হাইকোর্ট আপিল শুনানি শেষে তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে ২০১৫ সালের ৫ই জুলাই রায় দেন। এ রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল করেন কনডেম সেলে বন্দি সাহেব আলী। গতকাল রোববার শুনানি শেষে তাকে খালাস দিয়ে রায় দেয় আপিল বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *