৩৪ দিন পর যেভাবে রক্ষা পেলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

 ৩৪ দিন পর যেভাবে রক্ষা পেলো অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী

‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলে ৩৪ দিন আটকে রেখে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গণর্ধষণ করা হয়। এরপর ভারতে পাচারের উদ্যোগ নেয় অভিযুক্তরা। পরে বিষয়টি টের পেয়ে ওই কিশোরী কৌশলে পালিয়ে আসে।

এ ঘটনায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের বাসিন্দা ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ই অক্টোবর টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পাশের ঘাটাইল উপজেলার গৌরিশ্বর গ্রামের আসকরের ছেলে আল আমিন (২৫) এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই স্কুলছাত্রীর। চলতি বছরের ২১শে জুলাই ঈদুল আজহার দিন বিকেলে ওই কিশোরী তার মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি ভূঞাপুরের পৌর এলাকার তেঘরী গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে আল আমিনের ফোন পেয়ে ওই ছাত্রী নানার বাড়ি থেকে তার সঙ্গে ঘাটাইল উপজেলার চেংটা গ্রামে যায়। আল আমিন কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একটি বাড়িতে রেখে একটানা ২৫ দিন ধর্ষণ করেন। পরে ১৫ই আগস্ট সে তার আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে আসে। বাসস্ট্যান্ডে আল আমিনের বন্ধু পাচারকারী চক্রের সদস্য ট্রাকচালক মাসুদের ট্রাকে উঠে তাদের গন্তব্যে রওনা হয়।

পরদিন ১৬ই আগস্ট ভোর ৫টার দিকে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় ওই স্কুলছাত্রীকে। সেখানে চার-পাঁচজন মিলে তাকে গণধর্ষণ করে। পরে তাদের আলাপচারিতায় কিশোরী বুঝতে পারে যে, তাকে ভারতে পাচার করার পরিকল্পনা করছে। সে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে ২৫শে আগস্ট রাত ৮টার দিকে সেখান থেকে পালিয়ে রিকশাযোগে বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড আসে। সেখান থেকে ২৬শে আগস্ট বাড়িতে চলে আসে।

ওই কিশোরীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে বাড়িতে আসার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে পল্লী চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেওয়া হয়। পরে স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছে ঘটনাটি জানাই। আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করে ১০ই সেপ্টেম্বর মেয়েকে নিয়ে ভূঞাপুর থানায় একটি অভিযোগ করতে যাই। ভূঞাপুর থানার পুলিশ অভিযোগ শুনে মামলা গ্রহণ না করায় আমি আল আমিনকে প্রধান আসামি করে ট্রাক চালক মাসুম, আসকর মল্লিক, নজরুল মল্লিকের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করি।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব জানান, এ বিষয়ে ভূঞাপুর থানায় কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আকবর হোসেন রানা জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবি টাঙ্গাইলকে তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০২০ সালের ১৭ই ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিনও জানান, এ ধরনের কোনো মামলা এখনও হাতে আসেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *