কারখানা খোলার ঘোষণায় পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ঘাটে মানুষের ঢল

 কারখানা খোলার ঘোষণায় পাটুরিয়া ও শিমুলিয়া ঘাটে মানুষের ঢল

কঠোর লকডাউনের মধ্যে রপ্তানিমুখী কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে ঢাকামুখী মানুষের ঢল নেমেছে।

শনিবার ভোর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে চলাচলকারী প্রতিটি ফেরিতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ছে। 

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রুখতে  ঈদুল আজহার পর ২৩ জুলাই থেকে সরকার সারা দেশে কঠোর লকডাউন আরোপ করে, যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ঈদের ছুটিতে যারা গ্রামে গিয়েছিলেন, তাদের ৫ আগস্টের পর ঢাকায় ফিরতে অনুরোধ করেছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। একই অনুরোধ জানিয়েছিল পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ।

কিন্তু সেই অনুরোধের তোয়াক্কা না করেই ঢাকামুখী হতে শুরু করেছেন তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকরা। 

শনিবার সকালে পাটুরিয়া ঘাটে ঢাকাগামী যানবাহনের অপেক্ষায় ছিলেন পোশাক শ্রমিক কাকলী আক্তার, আঞ্জু খাতুন, রানা শেখ। তারা সবাই এসেছেন রাজবাড়ী থেকে।

রানা শেখ বলেন, ‘কালকে থেকে গার্মেন্টস খোলা। তাই যত তাড়াতাড়ি পারি, ঢাকার বাসায় যাওয়াই লাগব। আমাদের কালকেই কাজে জয়েন করতে হইব। তাই আজকেই চলে আসছি।’

কাকলী আক্তার বলেন, ‘পাঁচ তারিখের পরে আসার জন্য কী জানি বলছিল, সেটা আমরা তো জানি না। আমাদের বলা হইসে, কালকে থেকে কাজে আসা লাগব। তাই সকাল সকাল রওনা দিসি আজ। করোনার কথা চিন্তা কইরা লাভ আছে? আমাদের তো পেট চলা লাগব।’

কাকলী ও রানাদের মতো হাজারো পোশাক শ্রমিক এদিন সকালে ভিড় করেছেন  পাটুরিয়া ঘাটে। তাদের অনেকে যানবাহন না পেয়ে পায়ে হেঁটে রওনা দিয়েছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

কেউ আবার পাটুরিয়া ও  আরিচা ঘাট থেকে ৯-১০কিলোমিটার পায়ে হেটে উথলী, চেপড়া, বরংগাইলসহ বিভিন্ন ষ্টেশনে এসে হ্যালোবাইক, অটোরিক্সা, ভ্যান, সিএনজি ও প্রাইভেটার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে তিন চার গুণ ভাড়া বেশি দিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন।

গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পাটুরিয়া ঘাট থেকে প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও সিএনজিতে  জনপ্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের।

আরিচা অফিসের বিঅইডব্লিউটিসির ডিজিএম জিল্লুর রহমান আমাদের বার্তাকে বলেন, রোববার থেকে পোশাক কারখানা ও শিল্প কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় আজ  সকাল থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ঢল পড়েছে। এ নৌ-রুটে ৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। 

করোনা মহামারির কারণে চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে ফেরিগুলোয়। 

বাংলাবাজার ঘাট থেকে যেসব ফেরি ঘাটে আসছে তাতে স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করেই পারাপার হচ্ছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. জাকির হোসেন জানান, যাত্রীদের চাপে এই নৌপথে চলাচল করছে ১০টি ফেরি। 

পোশাককর্মী  আল আমিন বলেন, ‘ঈদের পর থেকে ভাবছিলাম কবে গার্মেন্টস খুলবে। গত কালকে রাতে ফোন পেলাম আমাদের পোশাক কারখানা রোববার থেকে খুলবে। তাই গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে আবারও ঢাকায় রওনা করেছি।’

বিআইডব্লিটিসির শিমুলিয়া ঘাটের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম আমাদের বার্তাকে জানান, ঘাটে অল্প কিছু যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যাত্রীর চাপ কম। তবে বাংলাবাজার ঘাটে প্রচুর যানবাহন অপেক্ষমাণ আছে। সেখান থেকেই যে ফেরিগুলো আসছে, তাতে প্রচণ্ড  যাত্রী চাপ রয়েছে। আগামীকাল থেকে গার্মেন্টস খোলা থাকার কারণে এই চাপ বেড়েছে। রোববারের পরে এ চাপ কমে যাবে বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *