পেঁয়াজের দামে ‘ঝাঁজ’, মরিচেও ‘ঝাল’ বেশি

 পেঁয়াজের দামে ‘ঝাঁজ’, মরিচেও ‘ঝাল’ বেশি

পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচের দাম শুনেই ঝাঁজ ও ঝাল—দুটোই এখন টের পাওয়া যায়। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩৫ টাকা বেড়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়েও ঢাকার বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের খুচরা মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। একইভাবে কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ৭০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) গতকাল বৃহস্পতিবারের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম (খুচরা মূল্য) প্রায় ৫৮ শতাংশ বেড়েছে।

দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের দরও বেড়েছে। প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে ভারতীয় পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৫ টাকা। পেঁয়াজের দাম হঠাৎ কেন এতটা বাড়ছে, এমন প্রশ্নে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারিতে তাঁরা যে দামে কেনেন, তা থেকে কিছুটা লাভ রেখে বিক্রি করেন। আড়তে দাম বাড়ায় তাঁরাও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

অন্যদিকে রাজধানীর বিভিন্ন আড়তের পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে ভারতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে। এ খবর পেয়ে জেলা-উপজেলার পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ দেশি পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই।

রাজধানীতে মসলাজাতীয় পণ্যের পাইকারি বাজার শ্যামবাজারে গতকাল প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৬৩ থেকে ৬৪ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর কারওয়ান বাজারের আড়তে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ৭০ টাকায়। ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৬৫ টাকা দরে। কিছু আড়তে মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৫২-৫৩ টাকা দরে। তবে কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানেই দেশি পেঁয়াজের কেজি ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল কেজিতে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা।

শ্যামবাজারের আড়তদার নারায়ণ চন্দ্র সাহা আমাদের বার্তাকে বলেন, স্থলবন্দর ও জেলা-উপজেলার পাইকারি বাজারে প্রশাসনের তদারকি দরকার। এসব জায়গায় পেঁয়াজের দাম দ্রুত বাড়ছে।

কাঁচা মরিচে ‘ঝাল’ বেড়েছে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল ও তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়া রেলওয়ে কাঁচা বাজারে গতকাল প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। তবে কারওয়ান বাজারে দাম সামান্য কম ছিল। বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচা মরিচের সরবরাহ কম। তাই দাম বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে বৃষ্টি ও পানি জমে কাঁচা মরিচের খেত নষ্ট হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *